সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

৫ গোলের দারুণ লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারাল স্পেন

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার

জমজমাট নেশনস লিগের ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিততে পারেনি থমাস টুখেলের দল।

শনিবার ওয়েম্বলিতে ম্যাচের শুরু হতে না হতেই মাত্র ১০৭ সেকেন্ডে এগিয়ে যায় স্পেন। মার্ক গুয়েহির ভুল স্পর্শে বল নিজের গোলমুখের দিকে চলে গেলে লামিনে ইয়ামাল তা কেড়ে নিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে জেমস ট্রাফোর্ডকে পরাস্ত করেন।

তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে ইংল্যান্ড। দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণে জুড বেলিংহাম ও অ্যান্থনি গর্ডনের দারুণ বোঝাপড়ায় সুযোগ তৈরি হয়। বেলিংহামের সঙ্গে এক-দুই করে গর্ডন বল পেয়ে বক্সের কিনারা থেকে নিখুঁত শটে স্পেনের জালে বল পাঠান।

এর মাত্র তিন মিনিট পরই এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ক্রস থেকে পাওয়া বলে হ্যারি কেইন ঝাঁপিয়ে হেড করেন। পরে মার্ক কুকুরেয়েলার বুকে লেগে বলটি জালে ঢুকে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আট মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন কেইন। বক্সের মধ্যে জুড বেলিংহামকে রদ্রি ফাউল করেছেন বলে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনার পর পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু পেনাল্টি নিতে গিয়ে পিছলে পড়ে যান কেইন, তাঁর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

এরপর সেই সুযোগের মূল্য দিতে হয় ইংল্যান্ডকে। নিকো ও’রাইলি নিজেদের অর্ধে বল হারালে বদলি খেলোয়াড় আলেক্স বায়েনা সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে সমতা ফেরান। এরপর বায়েনার পাস ধরে মিকেল ওইয়ারসাবাল ট্রাফোর্ডকে এগিয়ে আসতে দেখে চিপ করে বল জালে পাঠান। তাতেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।

লিড ফিরে পাওয়ার পর বলের দখল আরও শক্তভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় স্পেন। যোগ করা সময়ে ইংল্যান্ড মরিয়া চেষ্টা করলেও আর গোল পায়নি তারা। ফলে তিন পয়েন্ট নিয়ে নেশনস লিগের লিগ এ পর্বে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে কয়েকটি সুযোগ কিংবা তিনটি গোল হজম করায় ইংল্যান্ডের লজ্জার কিছু নেই। তবে স্পেনের প্রথম দুই গোলের ক্ষেত্রেই ইংল্যান্ড নিজেদের অর্ধে বল হারিয়ে তাদের কাজটা সহজ করে দিয়েছে।

বায়েনার সমতাসূচক গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার পর ভুলের জন্য হাত তুলে ক্ষমা চান ও’রাইলি। তবে ম্যাচের পর টুখেলের কাছ থেকে এ নিয়ে কঠোর কথা শুনতে হয়েছে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। বিশেষ করে ভুলের পর ইংল্যান্ড যেভাবে আবার ম্যাচে ফিরে এসেছিল, তাতে নিজেদের ভুলগুলো আরও হতাশাজনক হয়ে উঠেছে।

ম্যাচ শেষে টেলিভিশন চ্যানেলকে টুখেল বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের শুরুটা ভয়াবহ ছিল। এর চেয়ে খারাপ শুরু আর হতে পারত না। এই ধরনের দলের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়লে ম্যাচটা কঠিন হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘১০-১২ মিনিট পর আমার মনে হয়েছে আমরাই ভালো দল ছিলাম। এরপরও আমরা দুই-তিনটি বড় ভুল করেছি এবং বড় সুযোগ দিয়েছি। তবে সামগ্রিকভাবে আমরা ভালো ছিলাম। বাঁশি বাজার পরের ১৫ মিনিটই ছিল আমাদের সবচেয়ে ভালো সময়।’

ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস চোটের কারণে খেলতে না পারায় তাঁর উপস্থিতি থাকলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণের চিত্র ভিন্ন হতে পারত কি না, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে তাঁর উপস্থিতি থাকলেও ব্যক্তিগত ভুলগুলো যে পুরোপুরি এড়ানো যেত, এমন নিশ্চয়তা নেই।

স্পেনের তৃতীয় গোলটি অবশ্য ঠেকানো ছিল কঠিন। বলের দখলে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলটি অনায়াসেই ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে দেয়। বদলি খেলোয়াড় বায়েনা আরেক বদলি ওইয়ারসাবালের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া করে গোলটি তৈরি করেন। এতে স্পেনের শক্তিশালী বেঞ্চের গভীরতাও ফুটে ওঠে।

আন্তর্জাতিক বিরতির শুরুতে টুখেল বলেছিলেন, তাঁর দলকে ‘স্পেনের মতো আরও বেশি’ হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি নিজেদের শক্তির ওপরও আস্থা রাখার কথা বলেছিলেন।

প্রথমার্ধে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে ইংল্যান্ড যেভাবে এগিয়ে গিয়েছিল, তাতে তাদের সেই শক্তিগুলো স্পষ্ট হয়েছিল। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নেওয়া, দ্রুত বল এগিয়ে দেওয়া এবং সুযোগ তৈরি করা—সবই ছিল সেই আক্রমণে।

তবে টুখেল শুধু পাল্টা আক্রমণনির্ভর ফুটবল খেলতে চান না। গর্ডনের গোলটি ভবিষ্যতের জন্য কোনো আদর্শ হতে পারে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অ্যান্থনি গর্ডনের গোলটি পাল্টা আক্রমণ থেকে এসেছে। আমরা বল কেড়ে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেষ ২০ মিটারে আমরা যদি আরও নিখুঁত হতে পারতাম, তাহলে আরও সুযোগ তৈরি করতে পারতাম। আমরা অবিশ্বাস্যসংখ্যকবার বল কেড়ে নিয়েছি। স্পেনের তুলনায় প্রতিপক্ষের অর্ধে আমরা ১২ থেকে ১৫ বার বেশি বল দখলে নিয়েছি। কিন্তু সেগুলোকে যথেষ্ট সুযোগ ও গোলে পরিণত করতে পারিনি। তা করতে পারলে আমরা ম্যাচটি জিততাম।’

টুখেলের ভাষায়, ‘চেষ্টা ছিল, মানও ছিল। ম্যাচের কিছু সময় আমরা খুব, খুব ভালো খেলেছি। কিন্তু আজকের ফল আমাদের সেই পারফরম্যান্সের প্রতিফলন নয়।’

ম্যাচ শেষে গর্ডন বলেন, ‘ওরা যেমন ভালো ছিল, আমরাও তেমনই ভালো ছিলাম। আমি মনে করি না দুই দলের মধ্যে কোনো ব্যবধান আছে। আমার মনে হয়েছে আমরা ওদের খুব কাছাকাছি। পেনাল্টিটি যদি গোলে পরিণত হতো, তাহলে সম্ভবত আমরা ম্যাচটি জিতে যেতাম।’

আন্তর্জাতিক বিরতিতে ইংল্যান্ডের সামনে এখনো তিনটি ম্যাচ বাকি। নিজেদের দলকে আরও ভালোভাবে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন টুখেল। চেকিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ও অ্যাওয়ে ম্যাচের মাঝখানে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও খেলবে ইংল্যান্ড।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com