

লিওনেল মেসিকে ছাড়া নতুন অধ্যায়টা দারুণভাবেই শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। মেসির শেষবারের মতো মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা দলটি বলিভিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে ৪-০ গোলে।
আগামী ৬ অক্টোবর রাত পেরিয়ে ৭ অক্টোবর ভোরে বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা মেসির। সেটিই হতে পারে জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ। এর আগে বলিভিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পেয়ে নিজেদের নতুন অধ্যায়ের শুরুটা স্মরণীয় করে রাখল বিশ্বকাপজয়ী দলটি।
বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্যও ছিল গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বছরের শেষ দিকে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। বড় কোনো পরিবর্তন না হলে নতুন চক্রের পরিকল্পনা নিয়ে তার চুক্তি নবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিপক্ষ খুব শক্তিশালী না হলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক দেখা গেছে।
লাওতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া দেখা গেছে। নিকো পাজও এরই মধ্যে দলের অন্যতম নেতা হয়ে ওঠার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। মাঝমাঠে দুর্দান্ত ছিলেন পালাসিওস।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলিভিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে খেলার খুব কাছাকাছি গিয়েও ইরাকের কাছে বাছাইপর্বের প্লে-অফে হেরে যাওয়া বলিভিয়া খেলেছে ৫-৪-১ ছকে। আক্রমণে প্রতিভাবান মিগেলিতো ছিলেন অনেকটাই একা। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের সামনে তারা তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি।
মেসি ও ওতামেন্দির বিদায়ের পর নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার রক্ষণ ছিল বেশ দৃঢ়।
ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন লাওতারো। ম্যাক অ্যালিস্টারের পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বলিভিয়ার গোলরক্ষক ভিসকারাকে পরাস্ত করেন তিনি।
এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকো পাজ। পালাসিওসের দারুণ লম্বা পাস ধরে গোলরক্ষক ভিসকারা এগিয়ে এলে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান কোমোর এই খেলোয়াড়।
তৃতীয় গোলের সুযোগও পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। হুলিয়ান আলভারেজকে গোলের সামনে বল বাড়িয়ে দেওয়া হলেও সময়মতো শট নিতে পারেননি আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। ফলে তাকে আটকে দেন বলিভিয়ার গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। গোলও আসে আরও দুটি।
নিকো পাজের ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বলে হেড করে নিজের গোলটি করেন রোমেরো। ৫৫ মিনিটে মাঠ ছাড়েন নিকো পাজ। তার জায়গায় নামেন মাসতুয়ান্তোনো। একই সময়ে রোমেরোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন বালের্দি।
এরপর ব্যবধান আরও বাড়ান ফ্লাকো লোপেস। লিওনেল ফ্লোরেসের দারুণ একটি আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগে স্লাইডিং ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
ম্যাচে আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন লাওতারো। ৭৫ মিনিটে মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে চোট গুরুতর নয়। রোচারের স্টাড দুর্ঘটনাবশত তার মাথায় লাগায় সামান্য কেটে যায়।
আগামী শনিবার রাত পেরিয়ে রোববার ভোরে আবার মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এবার তাদের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো।