বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন

রোমাঞ্চকর ম্যাচে বার্সাকে মাটিতে নামাল পিএসজি

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭ বার

চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) জয় এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ভিতিনিয়া। মঙ্গলবার রাতে নাটকীয় লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ফরাসি ক্লাবটি। চলতি মৌসুমে ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতার শিরোপার অন্যতম দাবিদার দুই দলের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে পিএসজি।

ম্যাচের ৮১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে পিএসজিকে এগিয়ে দেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া। তখন ম্যাচের স্কোর ছিল ২-২। প্রতিপক্ষের রক্ষণ সামলে বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শটে জালে বল পাঠান গত বছরের ব্যালন ডি’অর তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা এই ফুটবলার।

এরপর ফাবিয়ান রুইজের গোলে জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন ম্যাচ জিতল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। টানা তৃতীয় মৌসুমে এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে তারা।

অবশ্য ম্যাচে একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ফরাসি রাজধানী থেকে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরবে বার্সেলোনা। লামিনে ইয়ামালের গোলে ২-২ সমতায় ফিরেছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। চলতি বছরের ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবিদার ইয়ামাল দারুণ দক্ষতায় বল জালে পাঠিয়ে বার্সেলোনাকে ম্যাচে ফেরান।

এর আগে পিএসজির হয়ে প্রথম গোলটি করেন দেজিরে দুয়ে। এরপর বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলার জাভি এসপার্ট গোল করে সমতা ফেরালে লুকাস এরনান্দেসের গোলে আবারও এগিয়ে যায় পিএসজি।

এই হার বার্সেলোনার জন্য বড় ধাক্কা হলেও ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার পরবর্তী পর্বে ওঠার সম্ভাবনায় তা খুব বেশি প্রভাব ফেলবে বলে মনে হচ্ছে না। মৌসুমের শুরুতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জিতে ফ্রান্সে গিয়েছিল তারা। সেই জয়ের ধারায় ছেদ পড়লেও গোল করার ধারায় ছেদ পড়েনি। ইয়ামালের গোলটি ছিল চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার ৫০তম গোল।

অন্যদিকে ফরাসি লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জিতেছে পিএসজি। তবে এই ম্যাচে চোটের কারণে দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় উসমান দেম্বেলে ও খভিচা কাভারাস্খেলিয়াকে হারিয়েছে তারা। গত বছরের ব্যালন ডি’অরজয়ী দেম্বেলের চোট কতটা গুরুতর, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

তবে ম্যাচে পিএসজির হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন দুয়ে। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হওয়ার মতোই ছিল। এভাবে এগোতে থাকলে কোচ লুইস এনরিকের দল অনায়াসেই প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে পারে।

গত ১৩ বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল দুই দলের ১৪তম মুখোমুখি লড়াই। তবে বার্সেলোনার জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি সম্ভবত এখনো বাকি। আগামী রোববার নিজেদের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদকে হারাতে পারলে স্প্যানিশ লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে নয় পয়েন্টে এগিয়ে যাবে তারা।

২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রিকে শুরুতে বেঞ্চে রাখার পেছনে এই ম্যাচের গুরুত্ব বিবেচনায় বার্সেলোনার পরিকল্পনার ভূমিকা থাকতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা রাফিনিয়া ফিরেছিলেন শুরুর একাদশে।

গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪-২ গোলে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা পিএসজি শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করে। দেড় মিনিটের মধ্যেই কাভারাস্খেলিয়ার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

তবে ২০ মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন দেম্বেলে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে আক্রান্ত হয়ে উঠে গেলে তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফেররান তোরেস। গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়া এই ফুটবলারকে এবার নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষেই খেলতে হয়। এরপর চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনার দানি ওলমোও।

৩৮তম মিনিটে ইয়ামালের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় পিএসজি। নিজেদের অর্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান ইয়ামাল। সেই বল পেয়ে দুর্দান্ত পায়ের কারুকাজে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে জালে পাঠান দুয়ে।

প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার যথেষ্ট যোগ্যতা দেখিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে বিরতির পরপরই সমতা ফেরায় বার্সেলোনা। ফেরমিন লোপেজের পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে গোল করেন এসপার্ট। জ্যেষ্ঠ দলের হয়ে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল।

এরপর রদ্রিকে মাঠে নামায় বার্সেলোনা। কিন্তু ম্যাচের গতি ক্রমেই বেড়ে যায়। স্বাগতিকদের হয়ে তোরেসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর কর্নার থেকে হেডে গোল করে পিএসজিকে আবারও এগিয়ে দেন এরনান্দেস।

নিয়মিত বাঁ প্রান্তের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নুনো মেন্দেস না থাকায় ইয়ামালকে আটকানোর দায়িত্ব দিয়ে এরনান্দেসকে একাদশে নেওয়া হয়েছিল। পিএসজির হয়ে শতাধিক ম্যাচ খেলার পর এটি ছিল তার মাত্র তৃতীয় গোল। এর আগে সর্বশেষ গোল করেছিলেন ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

গোল করার পাশাপাশি রক্ষণেও দারুণ খেলছিলেন এরনান্দেস। তবে গোলের কিছুক্ষণ পরই তাকে তুলে নেন কোচ লুইস এনরিকে। তার বদলি হিসেবে নামা ওয়ারেন জাইরে-এমেরির ভুলেই আবারও সমতায় ফেরে বার্সেলোনা।

উঁচু থেকে আসা বলের নিচে ঠিকমতো পৌঁছাতে পারেননি জাইরে-এমেরি। সেই সুযোগে বল নিয়ে এগিয়ে যান ইয়ামাল এবং কাছ থেকে নিজের মৌসুমের দশম গোলটি করেন।

তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে পিএসজি। ভিটিনিয়ার দুর্দান্ত গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর কাছ থেকে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন রুইজ। ইউরোপের মঞ্চে এখনো যে পিএসজিকে হারানো কঠিন, বার্সেলোনার বিপক্ষে এই জয় দিয়ে সেই বার্তাই দিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com